• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন
Headline
বোয়ালখালী কধুরখীল জ্ঞানোদয় বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমার উৎসব পরিদর্শনে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী পটিয়ার আমির ভান্ডার দরবার শরীফে ওরশ, ঈদে মিলাদুন্নবী ও সেমা মাহফিল অনুষ্ঠিত কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমায় বিপ্লব জলদাসের শুভেচ্ছা বোয়ালখালীতে প্রথমবারের মতো দাবা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, অংশ নেন ৪০০ দাবাড়ু কোয়েপাড়া পল্লী সেবা সংঘের শিল্পীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্রনাথের ‘বাল্মীকি প্রতিভা’ বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী কর্তৃক শুভ প্রবারণা পূর্ণিমায় শুভেচ্ছা বার্তা  মা-ইলিশ রক্ষা নিষেধাজ্ঞা: সাগরে নামার আগেই ঋণের জালে আব্দুল মান্নান,নুরনবি সহ হালিশহরের অসংখ্য মৎস্যজীবীরা। বোয়ালখালীতে সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতি, মুহাম্মদ হাসান চৌধুরীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান বোয়ালখালীতে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সম্মাননা ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত 

প্রবাসে নামকরা শেফ, শিকড়ে মানুষের সেবক—শাহ্ বাবলু হোসেন**

Reporter Name / ১৬৯ Time View
Update : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

**লেখক: মো. জোসেপ আলী চৌধুরী**

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের ত্রৈলোক্য বিজয় পীরবাড়ির সাধারণ ঘর থেকে উঠে এসে আজ নর্থ লন্ডনের পরিচিত নাম শাহ্ বাবলু হোসেন। প্রবাসজীবনের ২৭ বছরে রান্নার জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন, দুইবার অর্জন করেছেন সম্মাননা এবং বর্তমানে নর্থ লন্ডনের ‘টেস্ট অব নবাব’-এর প্রধান শেফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও শিকড়কে ভুলে যাননি তিনি। তাঁর মন পড়ে থাকে জন্মভূমি মৌলভীবাজারের মানুষের কাছে। নিজের জীবনদর্শন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, *“আমার সম্পদ মানুষের দোয়া।”*
#### **শিকড়ের গল্প**
শাহ্ বাবলু হোসেনের পিতা মরহুম শাহ্ আব্দুল মুছব্বির। গ্রামের বাড়ি ত্রৈলোক্য বিজয় পীরবাড়ি, ডাকঘর ত্রৈলোক্য বিজয়, ৩ নম্বর কামালপুর ইউনিয়ন, মৌলভীবাজার সদর। ২৭ বছর ধরে প্রবাসে থাকা বাবলু হোসেন নর্থ লন্ডনের ‘টেস্ট অব নবাব’-এর প্রধান শেফ। রন্ধনশিল্পে দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দুবার এআরটিএ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। ২০১৬ সালে প্রথমবার পুরস্কার পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ‘রিজিওনাল শেফ অব দ্য ইয়ার, নর্থ লন্ডন’ পুরস্কার অর্জন করেন।
*হালাল উপার্জন, মানুষের সেবা**
বাবলু হোসেনের কাছে অর্থ ও পার্থিব সাফল্যের চেয়ে মানুষের দোয়া বড়। তিনি বলেন, *“আমার বাড়ি-গাড়ি নাই। আমার শক্তি আমার হাতের বল।”* এই হাতের উপার্জন থেকেই তিনি বছরের পর বছর জন্মভূমির অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর উদ্যোগে বিভিন্ন অসহায় পরিবারের ঘরে নিয়মিত চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। অসহায় মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপ স্থাপনসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সহযোগিতা করেছেন।**নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষায় অবদান**
বিধবা ও দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করতে তিনি সেলাই মেশিন বিতরণ করেছেন। মেয়েদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে ১৫টি উচ্চবিদ্যালয় ও তিনটি মাদ্রাসায় স্যানিটারি ন্যাপকিন রাখার জন্য আলমারিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপহার দিয়েছেন।
দরিদ্র পরিবারের ৯০ জন শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খরচ, বই-খাতা ও স্কুল ড্রেসের দায়িত্ব নিয়েছেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের দিয়েছেন স্কুলব্যাগ ও কলম। গ্রামের শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ক্রীড়াসামগ্রীও বিতরণ করেছেন।পরিবেশ ও জনসেবা হাওর ও পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে যাত্রীছাউনি নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন। কামালপুরের একটি মসজিদে টিলা কেটে রাস্তা নির্মাণ, ৪০টি বাতি স্থাপন ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেছেন।আলেম-ইমামদের সম্মানের দাবিতাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মান ও জীবনমান উন্নয়ন। বাংলাদেশের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারিভাবে জাতীয়করণ এবং সম্মানজনক বেতন কাঠামোর আওতায় আনার দাবিতে কাজ করছেন। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনগর ও বড়লেখাসহ তিনটি সম্মেলনের মাধ্যমে মোট ২২০ জন ইমাম-মুয়াজ্জিনকে এক মঞ্চে নিয়ে আসেন।সফলতার সংজ্ঞা অন্যরকম নিজের নামে বড় স্থাপনা নয়, মানুষের প্রয়োজন মেটানোকে বড় করে দেখেন তিনি। তাঁর ভাষায়, *“আমি সফল না। আমি চেষ্টা করতেছি। বাড়ি বানাই নাই, কিন্তু গরিবের ঘর বানাইছি। গাড়ি কিনি নাই, কিন্তু যাত্রীছাউনি বানাইছি। ২২০ জন ইমামের মুখে হাসি ফুটাইছি—এর চেয়ে বড় সফলতা কী আছে?”*
প্রবাসে দীর্ঘদিন কাটালেও শাহ্ বাবলু হোসেনের হৃদয়ে রয়েছে জন্মভূমির টান। নিজের উপার্জনের একটি অংশ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করে তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। তাঁর শেষ ইচ্ছা—*“কবরে যাওয়ার আগে যেন আরও একটা পরিবারের মুখে হাসি ফুটায় যেতে পারি। নিজের নামে মসজিদ না, আল্লাহর খাতায় নাম লেখানোই আসল।প্রবাসে পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি জন্মভূমির মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টা শাহ্ বাবলু হোসেনকে স্থানীয়দের কাছে একজন মানবিক ও সমাজসেবী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা