• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
Headline
বোয়ালখালী কধুরখীল জ্ঞানোদয় বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমার উৎসব পরিদর্শনে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী পটিয়ার আমির ভান্ডার দরবার শরীফে ওরশ, ঈদে মিলাদুন্নবী ও সেমা মাহফিল অনুষ্ঠিত কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমায় বিপ্লব জলদাসের শুভেচ্ছা বোয়ালখালীতে প্রথমবারের মতো দাবা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, অংশ নেন ৪০০ দাবাড়ু কোয়েপাড়া পল্লী সেবা সংঘের শিল্পীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্রনাথের ‘বাল্মীকি প্রতিভা’ বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী কর্তৃক শুভ প্রবারণা পূর্ণিমায় শুভেচ্ছা বার্তা  মা-ইলিশ রক্ষা নিষেধাজ্ঞা: সাগরে নামার আগেই ঋণের জালে আব্দুল মান্নান,নুরনবি সহ হালিশহরের অসংখ্য মৎস্যজীবীরা। বোয়ালখালীতে সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতি, মুহাম্মদ হাসান চৌধুরীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান বোয়ালখালীতে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সম্মাননা ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত 

দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ভোগ বৃদ্ধি হোক পুষ্টিনিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের অন্যতম মাধ্যম

Reporter Name / ৯৭ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মাটি ও জলবায়ুতে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, পেঁপে, কলা, আনারস, লিচু, বরই, আমড়া, কামরাঙা, লেবু, জামসহ নানা ধরনের পুষ্টিকর ফল উৎপাদিত হয়। এসব দেশীয় ফল আমাদের খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টি চাহিদা ও অর্থনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। অথচ দেশীয় ফলের পর্যাপ্ত উৎপাদন ও প্রাপ্যতার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি ফলের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ দেখা যায়। পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ফলের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ভোগ বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে, অন্যদিকে ফল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
দেশীয় ফল ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ
সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, খাদ্য-আঁশ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। দেশীয় বিভিন্ন ফলে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ-এর পূর্বধাপ বিটা-ক্যারোটিন, ফোলেট, পটাশিয়াম ও খাদ্য-আঁশসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। যেমন—পেয়ারা ও আমলকী ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস, পাকা পেঁপে ও আমে বিটা-ক্যারোটিন পাওয়া যায় এবং কলা ও অন্যান্য ফলে বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে।
তবে কোনো একটি ফল বা শুধু ফল খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের সব ধরনের ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। তাই দেশীয় ফলের পাশাপাশি শাকসবজি, ডাল, শস্য, ডিম, মাছ, দুধসহ বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মৌসুমি দেশীয় ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা গেলে পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা বাড়বে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
ফল আমদানির ওপর চাপ কমানো ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় বিদেশ থেকে ফল আমদানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। দেশের ভেতরে উৎপাদিত ফলের গুণগত মান, সরবরাহব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণ উন্নত করে দেশীয় ফলের প্রতি ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়ানো গেলে আমদানিকৃত ফলের বিকল্প হিসেবে দেশীয় ফলের ব্যবহার বাড়তে পারে। এর ফলে যেসব আমদানিকৃত ফলের পরিবর্তে দেশীয় ফল ব্যবহার করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে আমদানির চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।ফল আমদানির বিকল্প হিসেবে দেশীয় ফলের ব্যবহার বাড়লে সাশ্রয় হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অন্যান্য জরুরি পণ্য ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে আমদানি কমানোর সম্ভাবনা নির্ভর করবে দেশীয় উৎপাদনের পরিমাণ, ভোক্তাদের চাহিদা, ফলের মৌসুমি প্রাপ্যতা, মূল্য ও গুণগত মানের ওপর।
কৃষক, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব দেশীয় ফলের চাহিদা বাড়লে কৃষকের উৎপাদিত ফলের বাজার সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে ফলচাষে বিনিয়োগ, নতুন বাগান স্থাপন, উন্নত জাতের চাষ এবং আধুনিক কৃষিপদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকের আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে ফল সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে মৌসুমি ফল সংরক্ষণ, হিমাগার ও উপযুক্ত শীতল সরবরাহব্যবস্থা, ফল শুকানো এবং জুস বা অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে অপচয় কমবে। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং ভোক্তারাও সাশ্রয়ী মূল্যে দেশীয় ফল কিনতে পারবেন।করণীয় ও কার্যকর প্রস্তাবনা
১. দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের উন্নত চারা, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কৃষি-সহায়তা প্রদান করতে হবে।
২. মৌসুমি ফল সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে উৎপাদিত ফলের অপচয় কমে।
৩. বিদ্যালয়, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ এবং সুষম খাদ্যে এর গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে।
৪. দেশীয় ফলের মান, নিরাপদ উৎপাদন, পরিচ্ছন্নতা ও বাজার তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।৫. ফলচাষি ও ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ফল সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. দেশীয় ফলের উৎপাদন ও আমদানির পরিসংখ্যান নিয়মিত বিশ্লেষণ করে যেসব ক্ষেত্রে দেশীয় ফল কার্যকর বিকল্প হতে পারে, সেসব ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
৭. কৃষি গবেষণা, ফলের উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং বছরজুড়ে বিভিন্ন ধরনের ফলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।উপসংহার দেশীয় ফল শুধু আমাদের খাদ্যসংস্কৃতির অংশ নয়; এটি পুষ্টি উন্নয়ন, কৃষকের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই বিদেশি ফলের প্রতি অপ্রয়োজনীয় নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ফলের উৎপাদন, বিপণন ও ভোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তবে লক্ষ্য হওয়া উচিত সব ধরনের ফল আমদানি বন্ধ করা নয়; বরং দেশীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য ফলের ক্ষেত্রে আমদানির বিকল্প তৈরি করা এবং ভোক্তাদের পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় রাখা।জনস্বার্থে আমাদের অঙ্গীকার হোক—দেশীয় ফল বেশি খাই, বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করি, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করি এবং সম্ভব হলে ফল আমদানির বিকল্প হিসেবে দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখি।

জনস্বার্থে:
মুহাম্মদ আসাদ উল্লাহ
(বি.এস-সি)
সংগঠক। শিক্ষানুরাগী। পরামর্শক। সমাজসেবক।
আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
আজীবন সদস্য: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিট।
১০ অক্টোম্বর’২৬ইং


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা