• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন
Headline
চট্টগ্রামে খোলা ড্রেনের মরণফাঁদ থেকে মুক্তি পেল পথচারীরা কোয়েপাড়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে নবীন বরণ ও বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত শোক বার্তা আল-মারচুচ হজ্ব কাফেলার উদ্যোগে পবিত্র হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’২০২৬ অনুষ্টিত। জিয়াউর রহমানের নামে কালুরঘাট সেতুর নামকরণের দাবী জানালেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান সাংবাদিককে না পেয়ে গাড়ি পাহারাদারের উপর চড়াও — পুলিশের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদী ও মব সন্ত্রাস দূর করে মুক্ত সংস্কৃতির প্রবাহের মাধ্যমেই সব মানুষের মানবতার রাষ্ট্র সম্ভব। আল্লামা ইমাম হায়াত পটিয়া-আনোয়ারা-চন্দনাইশের সংযোগস্থলে ‘ওয়াই টাইপ’ সেতুর দাবিতে মতবিনিময় পটিয়া-আনোয়ারা-চন্দনাইশের সংযোগস্থলে ‘ওয়াই টাইপ’ সেতুর দাবিতে মতবিনিময় সেনবাগে ক্যাবের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

ধর্মীয় আবহে গহিরা গ্রামে ঁযোগেশ ও শান্ত কুমারী দাশের ভাস্কর শ্মশান মন্দির উৎসর্গ

Reporter Name / ৪৮ Time View
Update : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

যীশু সেন, বিশেষ প্রতিনিধি :

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পূর্ব গহিরা গ্রামে এক গম্ভীর ও শ্রদ্ধামিশ্রিত পরিবেশে উদ্বোধন ও উৎসর্গ করা হয়েছে “ভাস্কর শ্মশান মন্দির”, যা নির্মিত হয়েছে স্বর্গীয় যোগেশ চন্দ্র দাশ ও স্বর্গীয়া শান্ত কুমারী দাশের পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে। পারিবারিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং পূর্বপুরুষদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই মন্দিরটি এলাকাবাসীর কাছেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
অতিথি ছিলেন কুন্ডেশ্বরী ঔষধালয় লিঃ পরিচালক বাসুদেব সিংহ, পূর্ব গহিরা কল্যাণ সংঘের সভাপতি ডাক্তার অনিল বিশ্বাস, রানা দাশ, প্রধান শিক্ষক অনিল চন্দ্র দাশ, ব্যাংকার সৃজন দাশ, স্বপন দাশ, শিক্ষক সুবিমল দাশ গুপ্ত প্রমূখ।
মন্দিরটির উৎসর্গ করেন যীশু কুমার দাশ, যিনি স্বর্গীয় যতীন্দ্র লাল দাশ ও স্বর্গীয়া গীতা বালা দাশের সন্তান। তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করে রাখতে এবং সমাজে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করতে এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ছিলেন তাঁর স্ত্রী বীণা দাশ, বড় ছেলে জয় দাশ, পুত্রবধূ রুমী দাশ, নাতনী প্রজ্ঞা দাশ এবং ছোট ছেলে বিজয় দাশ।
পবিত্র শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা পরিবেশনায়
ছিলেন ওমকারেশ্বরী গীতাশ্রমের
অধ্যক্ষ শ্রীমৎ মহাব্রতানন্দ মহারাজ ও
চণ্ডী, গীতাপাঠক ও ভাগবতীয় আলোচক
শ্রীমৎ ধ্যানেশ্বর চৈতন্য।
উৎসর্গ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের ২০ মার্চ, শুক্রবার, যা বাংলা ১৪৩২ সালের ৫ই চৈত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মন্দিরটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রধান ধর্মীয় আচারসমূহ হলো- শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা পাঠ, মঙ্গলাচরণ ও গণেশ পূজা, বাস্তু পূজা ও ভূমি শুদ্ধিকরণ, হোম-যজ্ঞ, দেব-দেবীর পূজা ও আরতি, মন্ত্রপাঠ ও শাস্ত্রপাঠ,
কীর্তন ও ভজন, প্রদীপ প্রজ্বলন, অন্নদান ও বস্ত্র দান বা ভোজের আয়োজন, শিব বা মহাকাল পূজা, মৃত আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা ও পিণ্ডদান ইত্যাদি।
অনুষ্ঠানে পূজা পরিচালনা করেন কুন্ডেশ্বরী জগদ্ধাত্রী পূজার পুরোহিত বাবুল চক্রবর্তী, যিনি সনাতন ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করেন।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তারা এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এমন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। মন্দিরটি শুধু পারিবারিক স্মৃতিচিহ্ন হিসেবেই নয়, বরং এলাকার মানুষের জন্য একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যীশু কুমার দাশ তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই মন্দিরের মাধ্যমে আমরা তাদের স্মৃতি অম্লান রাখার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমাদের শিকড় সম্পর্কে সচেতন করতে চেয়েছি।”
সবমিলিয়ে, ভাস্কর শ্মশান মন্দিরের এই উদ্যোগ পূর্ব গহিরা গ্রামের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর মাধ্যমে এলাকার মানুষের মধ্যে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও সম্মান জানানোর একটি সুন্দর ও অর্থবহ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে এ উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকার মানুষ নিকটতম পূর্বপুরুষদের স্মরণে ভাস্কর শ্মশান মন্দির নির্মাণে অনুপ্রাণিত হবে এবং এটি একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category