যীশু সেন, বিশেষ প্রতিনিধি :
রাউজান উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কোয়েপাড়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে গত ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীন বরণ, এস.এস.সি পরীক্ষার্থী বিদায়ী সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণী, আলোচনা সভা ও সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনডিসি অবসরপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (প্রকৌশলী) শহীদউল্লাহ চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জ্ঞানই মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তোমাদের মধ্যে থেকেই আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরি হবে, তাই সততা, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।”
ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাউজান উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সজল চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার অন্যতম ক্ষেত্র। তিনি শিক্ষার্থীদের সময়ের সদ্ব্যবহার করে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহামুনি এংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জন বড়ুয়া। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো ছাত্রজীবন। এই সময়ের সঠিক ব্যবহারই ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি স্থাপন করে।” তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং নবীন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানান।
মূখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম ইডেন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ নাহার নবুয়ত চৌধুরী। তিনি বলেন- শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর যুগে সৃজনশীলতা ও মানবিকতা একসাথে বিকশিত করাই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আলোকিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাউজান প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক ইনফো বাংলার সিনিয়র সহ-সম্পাদক যীশু সেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তাই পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করাও অত্যন্ত জরুরি।” তিনি শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক চিন্তাধারার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কোয়েপাড়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমলিকা সেনগুপ্ত। তিনি শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, “শিক্ষিত হওয়া মানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়, বরং একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠা।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিবানী চক্রবর্তী ও মৌসুমী মুৎসুদ্দীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক শফিকুর রহমান কামেলী, সহকারী প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন, কাবেরী চক্রবর্তী, রুম্পী চৌধুরী, নিলীমা ভট্টাচার্য, সোমা কানুনগো, মোসাম্মৎ শিউলী খাতুন, অজিত নাথ, শুভার্থী চক্রবর্তী এবং মোহাম্মদ আল হাসান।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে তাদের প্রতিভার পরিচয় দেয়।
সামগ্রিকভাবে অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে রাউজান উপজেলায় ২০২৩ ও ২০২৬ সালের শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত কৃতি শিক্ষক রুম্পী চৌধুরীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এ+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদেরও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।