নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) আকবরশাহ থানা পুলিশ ভোররাতের বিশেষ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতি চলাকালে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ চার কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। থানা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রবিবার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) ভোরে আকবরশাহ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই ফজলুর রহমান, এএসআই সালাম ও এএসআই তোষন সঙ্গীয় ফোর্সসহ শাপলা আবাসিক এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ দল ওই এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরপর অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— ১. শহিদুল ইসলাম জিহাদ (২২), পিতা—সফিক আহম্মেদ, মাতা—জয়নাব আক্তার; স্থায়ী ঠিকানা—কলা উজান, মাঝেরপাড়া, কানুরাম বাজার দক্ষিণ পাশে, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম। বর্তমান ঠিকানা—শাপলা আবাসিক, গ্যাস লাইন, বই ফ্যাক্টরি সংলগ্ন, ফয়সালের ভাড়াঘর, আকবরশাহ, চট্টগ্রাম। ২. মো. জিহাদ হোসেন ওরফে বাক্কা (১৯), পিতা—জাকির হোসেন, মাতা—রোজিনা বেগম; ঠিকানা—শাপলা আবাসিক এলাকা (মুনছুর আহঃ বাড়ি), রওশন মসজিদের পাশ, আকবরশাহ, চট্টগ্রাম। ৩. মো. ইমরান হোসেন (২৭), পিতা—মোস্তফা, মাতা—খোতেজা বেগম; স্থায়ী ঠিকানা—খাজুরিয়া পশ্চিমপাড়া, ২নং ওয়ার্ড, কেশারপাড়া ইউনিয়ন, সেনবাগ, নোয়াখালী। বর্তমান ঠিকানা—কর্ণেলহাট, জনসন রোড, মিতু হোটেলের পেছনে, কামরুল সওদাগরের বাড়ির ভাড়াটিয়া, আকবরশাহ, চট্টগ্রাম। ৪. সোহেল (৩১), পিতা—জামাল উদ্দিন, মাতা—নুর জাহান বেগম; ঠিকানা—হাসনাবাদ (সামছুর বাড়ি), ভাটিয়ারী রেলস্টেশন, সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম; বর্তমানে ভাসমান অবস্থায় অবস্থানরত।অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে যেসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়—
একটি দেশীয় তৈরি এলজি,
একটি চায়নিজ চা-পাতি (ধারালো অস্ত্র),
দুটি স্টিলের টিপ ছোরা।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত থেকে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আকবরশাহ থানায় দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে—
মামলা নং–২৫, তারিখ: ৩০/১১/২০২৫, ধারা—৩৯৯/৪০২ (পেনাল কোড ১৮৬০)মামলা নং–২৬, তারিখ: ৩০/১১/২০২৫, ধারা—১৯A/১৯(f) (Arms Act 1878)
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
আকবরশাহ থানা সূত্র জানায়, এলাকায় রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সংগঠিত অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।