যীশু সেন চট্টগ্রামঃ
শুদ্ধ সংগীতের ধারা সংরক্ষণ, বিকাশ ও প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের বার্ষিক লিখিত পরীক্ষা। সংগীত শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞান, সংগীত বিষয়ে অনুধাবন এবং শুদ্ধ সংগীত চর্চার ভিত্তি মূল্যায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বার্ষিক মূল্যায়ন (সংগীত)–২০২৫ এর তত্ত্বীয় লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টায়।
চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ান বাজার এলাকার সি অ্যান্ড বি কলোনী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক সংগীত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সংগীত তত্ত্ব, রাগ-রাগিণী, তাল, লয়, স্বরজ্ঞান এবং শুদ্ধ সংগীত চর্চার মৌলিক দিকগুলো মূল্যায়ন করা হয়।
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার হল পরিদর্শন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত এবং এন. আর. ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও মানবাধিকার কর্মী লায়ন সন্তোষ কুমার নন্দী। তাঁরা পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সংগীত শিক্ষা বিস্তারে বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের দীর্ঘদিনের অবদান ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন তাঁরা।
পরীক্ষার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ও বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের অধ্যক্ষ রিষু তালুকদার। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন প্রফেসর ঊর্মিলা রানী ভৌমিক। তাঁদের দক্ষ নেতৃত্ব ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পুরো পরীক্ষা কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়।
এছাড়াও পরীক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন লায়ন কৈলাশ বিহারী সেন, সাংবাদিক যীশু সেন, প্রকৌশলী রিমন সাহা, ব্যাংকার উৎপল চক্রবর্তী, প্রভাষক ঝুমুর খাস্তগীর, মো. আলমগীর, শিক্ষক পলাশ দে, রূপক ভট্টাচার্য, সোহান হোসেন, শিক্ষক সমীরন সেন, ডা. সৌমিত্র দাশ, সিনিয়র নার্স বাপ্পী দাশ, শিক্ষিকা সুস্মিতা দাশ, শিক্ষিকা বিজয়ালক্ষ্মী মজুমদার, শিক্ষিকা সুস্মিতা পারিয়াল, শিক্ষিকা জয়শ্রী দত্ত, চুমকি নন্দীসহ আরও অনেক শিক্ষক, পেশাজীবী ও স্বেচ্ছাসেবক।
সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, নিরপেক্ষ তদারকি এবং সবার আন্তরিক সহযোগিতার ফলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল আত্মবিশ্বাস ও আগ্রহ, আর অভিভাবকদের মধ্যে ছিল সন্তুষ্টি।
আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই ধরনের নিয়মিত ও মানসম্মত মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুদ্ধ সংগীত চর্চার আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এখান থেকেই গড়ে উঠবে দক্ষ, সৃজনশীল ও সচেতন সংগীত শিল্পী, যারা দেশীয় শুদ্ধ সংগীতকে সমৃদ্ধ করবে।