চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এর ইজারাকৃত ঘাটে ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে স্থানীয় কয়েকজন কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি’কে প্রতি মাসে দুই লাখ (২লাখ) টাকা করে চাঁদা দিতে হবে বলে অভিযোগ করেছেন ডাঙ্গারচর ৯নং বিএসসি ঘাটের ইজারাদার মো: আব্দুল কাদের। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঘাট ইজারাদারকে ডেকে সংঘবদ্ধভাবে মারধরের অভিযোগে কর্ণফুলী থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। যার মামলা নং ৩৭।
গত ২২ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্ণফুলী থানাধীন ডাঙ্গারচর ৩নং ওয়ার্ড আব্দুল সওদাগরের দোকানের দক্ষিণ পাশে বালুর মাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।মামলায় অভিযুক্ত চারজন হলেন-মো. সেলিম (৪০), আবদুল হালিম (৩৮), আবদুর রহিম (রফিক) (৩৫) এবং আবদুল হাকিম (আক্কু)(৩০)। তাদের সবার বাড়ি কর্ণফুলী থানাধীন ডাঙ্গারচর ৩নং ওয়ার্ড দিদীর পাড়া এলাকায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।মামলার বাদী আবদুল কাদের (৫০) ডাঙ্গারচর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে কর্ণফুলী থানাধীন ডাঙ্গারচর ৩নংওয়ার্ড ৯নং ঘাটের ইজারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এজাহারে বলা হয়, গত ১১ মার্চ থেকে বাদীর ছেলে মো. সাহেদ হোসেন এক বছরের জন্য সংশ্লিষ্ট ঘাটটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ইজারা নেন। ইজারা পাওয়ার পর থেকেই ঘাটের ব্যবসা পরিচালনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।একপর্যায়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ইজারাদার আব্দুল কাদেরকে জানানো হয়, ঘাটে ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে তাদের দুই লাখ টাকা দিতে হবে। এ টাকা না দিলে সেখানে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও প্রায় সময় হুমকি দিতেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।বাদীর অভিযোগ, ঘটনার দিন গত ২২ আগস্ট রাত ১০টার দিকে ১নং অভিযুক্ত মো. সেলিম তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে বাদীকে ফোন করেন। ফোনে তাকে ডাঙ্গারচর ৩বং ওয়ার্ড আবদুল সওদাগরের দোকানের দক্ষিণ পাশে বালুর মাঠ এলাকায় যেতে বলা হয়।এজাহারে বলা হয়, ফোন পেয়ে বাদী সেখানে গেলে চার অভিযুক্ত একত্র হয়ে তাদের দাবিকৃত দুই লাখ টাকা না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান এবং পুনরায় টাকা দাবি করেন। আব্দুল কাদের টাকা দিতে অপারগতা জানালে অভিযুক্তরা প্রথমে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে আব্দুল কাদেরের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর হয় বলে উল্লেখ করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে আহত আব্দুল কাদেরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্তরা তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে ঘাটে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে মামলার বাদী ঘাট ইজারাদার আবদুল কাদের বলেন, চসিক থেকে ইজারা নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে যদি প্রতি মুহূর্তে এভাবে চাঁদার মুখে পড়তে হয়, তাহলে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।স্থানীয়দের মতে, কর্ণফুলী নদীঘেঁষা ডাঙ্গারচর এলাকায় বিভিন্ন ঘাটকে কেন্দ্র করে পণ্য ওঠানামা, পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব ঘাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ও চাঁদাবাজির ঘটনা এই প্রথম নয়,এধরণের ঘটনা অহরহর ঘটে যাচ্ছে।এবার চসিকের ইজারাকৃত একটি ঘাটে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ইজারাদারের কাছে বিপুল অঙ্কের টাকা (মাসোহারা) দাবির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের মধ্যে উদ্বেগ আতংক সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, কোনো ঘাট সরকারি বা সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী ইজারা নেওয়ার পর সেখানে ব্যবসা পরিচালনার জন্য আলাদা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে টাকা দিতে হলে তা সরাসরি চাঁদাবাজির শামিল। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানান তারা।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনাস্থল, সংশ্লিষ্ট ঘাটের ইজারার কাগজপত্র, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং বাদীকে ফোন করে ডেকে নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।