যীশু সেন :
চট্টগ্রামের আনোয়ারা রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে প্রয়াত সমাজসেবক, আইনজীবী ও সংগঠক অ্যাডভোকেট হরিপদ চক্রবর্তীর স্মরণে ভোগ, পূজা এবং এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয। ৩০ মে শনিবার অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সেবাশ্রমের ভক্তবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি প্রয়াত এই ব্যক্তিত্বের কর্মময় জীবন, নেতৃত্বগুণ এবং সমাজকল্যাণমূলক অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি তাপস হোড়। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, অ্যাডভোকেট হরিপদ চক্রবর্তী ছিলেন একজন দূরদর্শী, সাহসী ও মানবিক নেতৃত্বের অধিকারী ব্যক্তি। সমাজ, ধর্ম ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং ন্যায় ও মানবকল্যাণের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আনোয়ারা রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ দাশ এবং সেবাশ্রমের প্রতিষ্ঠালগ্নের অন্যতম ব্যক্তিত্ব মিলন সেন। বক্তারা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে সেবাশ্রমের বিকাশ ও পরিচালনায় অ্যাডভোকেট হরিপদ চক্রবর্তীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নানা প্রতিকূলতা, সংকট ও চ্যালেঞ্জের সময় তিনি সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সেবাশ্রমের অগ্রযাত্রাকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট চন্দন চক্রবর্তী, ইঞ্জিনিয়ার প্রান্তিক চক্রবর্তী এবং নীলকান্ত দাশ বিষু। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে হরিপদ চক্রবর্তীর কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, অগ্নিগর্ভ সময়ে এবং প্রতিকূল সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশে তিনি দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। শুধু একজন আইনজীবী হিসেবেই নয়, বরং একজন সমাজনেতা, সংগঠক ও মানবকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবেও তিনি সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পর্বে ভক্তিমূলক গান পরিবেশন করেন স্বপন ভট্টাচার্য। বেদবাক্য পাঠ করেন কাজল দে। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রণব দাশ গুপ্ত। তাঁদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে এক গভীর আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নানা কর্মকাণ্ডে অ্যাডভোকেট হরিপদ চক্রবর্তীর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং নেতৃত্ব সমাজকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। মানুষের কল্যাণে নিবেদিত তাঁর জীবনদর্শন আজও অনুপ্রেরণার উৎস। বিশেষ করে “জীবে প্রেম করে যে জন, সে জন সেবিছে ঈশ্বর” — এই মহান আদর্শকে তিনি নিজের জীবনাচরণে ধারণ করেছিলেন। তাঁর রেখে যাওয়া অসংখ্য সেবামূলক ও পুণ্যকর্ম স্মরণ করে উপস্থিত সকলেই গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানের শেষে তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।