• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
Headline
একোয়ার-টেন্ডারবিহীন ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বল প্রয়োগে রাস্তা নির্মাণ অভিযোগ চসিকের বিরুদ্ধে আহলুস সুফফা কিন্ডারগার্টেনে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপিত হেভেন সিটি শফিংমল এ টট,স হেভেন এর অনুষ্ঠানিক যাত্রা সীতাকুণ্ড শীতলপুর শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবার ২৯৬তম শুভ আবির্ভাব উৎসব অনুষ্ঠিত হয় চান্দগাঁওয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ২৩তম আজিমুশশান নূরানী মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত সিরাত মাহফিল’- শাণে রেসালাতের বিরুদ্ধে মোনাফেকি ষড়যন্ত্র প্রত্যায়ন পত্র প্রত্যয়ন পত্র সন্ত্রাসের সামনে আপসহীন ওসি আবদুর রহিম খুলশীতে আইনের শাসনের নতুন বার্তা সন্ত্রাসের সামনে আপসহীন ওসি আবদুর রহিম খুলশীতে আইনের শাসনের নতুন বার্তা

সদরঘাট থানার অভিযানে এজাহারভুক্ত আসামি মুহাম্মদ জিলানী আটক।

Reporter Name / ৬৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

এবাদুল হোসেন ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি।

চট্টগ্রাম মহানগরের সদরঘাট থানাধীন সাহেবপাড়ায় সংঘটিত আলোচিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় প্রথমবারের মতো একজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সদরঘাট থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন মামলার ২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মুহাম্মদ জিলানী (৩০)।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৩০ জুলাই ২০২৬ রাত সাড়ে ৭টার দিকে বন্দর থানাধীন মুন্সিপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে সোপর্দ করা হয়।পুলিশ আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদরঘাট থানাধীন সাহেবপাড়া এলাকায় সংঘটিত হামলার ঘটনায় ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে মামলা রুজু হয়। মামলায় দাঙ্গা, অনধিকার প্রবেশ, মারধর, গুরুতর জখম, হত্যাচেষ্টা, চুরি, ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ পেনাল কোডের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলার এজাহারে বাদী পারুল বেগম অভিযোগ করেন, সংঘবদ্ধ একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ভাইদের মাছের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাছের ফ্রিজার, কর্মচারীদের আবাসিক কক্ষ এবং একাধিক বসতবাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রথমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে অফিসে প্রবেশ করে। পরে চুক্তির জন্য সংরক্ষিত প্রায় ১৫ লাখ টাকা, ক্যাশে থাকা নগদ অর্থ, ব্যবসায়িক হিসাবের খাতা, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই, জমা বই এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা মাছের ফ্রিজার রুমে ঢুকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কেজি মাছ, যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, লুট করে নিয়ে যায়। একই সময়ে কর্মচারীদের আবাসিক কক্ষে ঢুকে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুটপাট এবং ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়েছে।পরে হামলাকারীরা “মা-বাবা দোয়া ফিসিং ট্রেডার্স” প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ লুট, অফিসের আসবাবপত্র, ল্যাপটপ, এসি, ফ্রিজ ভাঙচুর এবং বাইরে থাকা তিনটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।এরপর তারা বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার লুট, ব্যাপক ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী গুরুতর আহত হন এবং প্রতিষ্ঠানের এক কিশোর কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।বাদীপক্ষের দাবি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাছের ফ্রিজার, কর্মচারীদের আবাসিক কক্ষ এবং একাধিক বসতবাড়িতে সংঘটিত হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরে প্রায় ৫২ লাখ টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।আদালতে দাখিল করা পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মুহাম্মদ জিলানীর বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন।এদিকে, মামলার প্রথম গ্রেপ্তারের ঘটনায় সাহেবপাড়া এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও স্থানীয়দের মধ্যে এখনও উদ্বেগ বিরাজ করছে। কারণ, মামলার অন্য এজাহারভুক্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেকেই এখনও পলাতক বলে এলাকাবাসীর দাবি।সাহেবপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা বলেন, “একজনকে গ্রেপ্তার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হোক। কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে যেতে না পারে।”তারা আরও বলেন, “১২ জুলাইয়ের ঘটনার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ব্যবসায়ী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে। তাই আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, অবশিষ্ট পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক। তাহলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর সাহস পাবে না।”বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।উল্লেখ্য, মামলার এজাহার ও পুলিশি প্রতিবেদনে বর্ণিত অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা