যীশু সেন, বিশেষ প্রতিনিধি :
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন – প্রেম, আধ্যাত্মিকতা ও মানবতার প্রতীক তারাচরণ সাধু। গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে তাঁর জীবনাদর্শ তুলে ধরেন। তাঁর শিক্ষা আজও সমাজকে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করে। বক্তারা আরও বলেন- বাসন্তীপূজার এই পবিত্র আয়োজনে ভক্তদের মিলনমেলা আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি জাগ্রত করে। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে আত্মশুদ্ধি ও সমাজকল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই হবে প্রকৃত।
চট্টগ্রামের রাউজানে শ্রী শ্রী কৈলাসেশ্বরী কালী মন্দিরে শ্রীমৎ তারাচরণ পরমহংসদেবের ১৪৭ তম শুভ আবির্ভাব তিথি ও বাসন্তীপূজা উদযাপন উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানাম সংকীর্তন, সাধুবাবার জীবনবেদ আলোচনা, গীতিনাট্য নৌকা বিলাস,
ধর্মসভা, গুণীজন সম্মাননা প্রদান, শিক্ষা বৃত্তি প্রদান, নব গঠিত মন্দির পরিচালনা পরিষদের পরিচিতি, গীতিনাট্য, সংগীত, নৃত্য ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সংগীতাঞ্জলি অনুষ্ঠান। গত ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার পশ্চিম গুজরাস্থ শ্রী শ্রী কৈলাসেশ্বরী কালী মন্দির ও সাধুতারাচরণ সেবাশ্রমের উদ্যোগে তারামঠ প্রাঙ্গণে পাঁচদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন।
শ্রীমৎ তারাচরণ সাধুর ১৪৭ তম আবির্ভাব তিথি উদযাপন পরিষদের সভাপতি নেপাল করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও আশীর্বাদক ছিলেন ফতেয়াবাদ শ্রী শ্রী ব্রক্ষানন্দ যোগাশ্রমের অধ্যক্ষ, ইউ.এ.ই শ্রী শ্রী জ্যোতি-লোকনাথ সেবাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমৎ স্বামী বীরেশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ।
সংবর্ধেয় অতিথি ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট চট্টগ্রামের সহকারী প্রকল্প পরিচালক শ্রী রিংকু কুমার শর্মা।
মহান অতিথি ছিলেন অনুষ্ঠানে মহান অতিথি ছিলেন পটিয়া ধলঘাট শ্রী শ্রী সাধুবাবা তারাচরণ সিদ্ধাশ্রমের সভাপতি আয়কর আইনজীবী দিলীপ কুমার ভট্টাচার্য্য। ধর্মীয় বক্তা ছিলেন সনাতনী বাগ্মী অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী।
পরমেশ ধর ও দীপ্ত দাশের যৌথ সঞ্চালনায় যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ১৪৭তম আবির্ভাব তিথি ও বাসন্তীপূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ বনিক মিন্টু। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মাখন বনিক, ১৪৭ তম আবির্ভাব তিথি উদযাপন সহ-সভাপতি নোটন প্রসাদ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী স্কাইল্যাব দে।
গুণীজন সম্মাননা পেলেন – রবীন্দ্র লাল বনিক, চন্দন বিশ্বাস, বাবুল কান্তি দাশ ডা. বাদল কান্তি চৌধুরী,এড. সঞ্জীবন চৌধুরী। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কমরেড শিশুপাল বড়ুয়াকে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মরণোত্তর বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে দীপন স্মৃতি, সতীশ-কুঞ্জ স্মৃতি,স্বপ্না বনিক স্মৃতি, অমর-গৌরী স্মৃতি,মহেন্দ্র-সূর্য্য স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তির অধীনে মোট ৪০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
এছাড়া অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আয়োজন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, তারাচরণ পরমহংসদেবের ১৪৭ তম শুভ আবির্ভাব তিথি ও বাসন্তীপূজা উপলক্ষে রাউজান ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার সনাতনী সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উৎসবকে ঘিরে এলাকাজুড়ে আলোক সাজসজ্জাকরণ করা হয় এবং ব্যাপক ভক্ত সমাগম হয়েছে।