• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন
Headline
চট্টগ্রামে খোলা ড্রেনের মরণফাঁদ থেকে মুক্তি পেল পথচারীরা কোয়েপাড়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে নবীন বরণ ও বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত শোক বার্তা আল-মারচুচ হজ্ব কাফেলার উদ্যোগে পবিত্র হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’২০২৬ অনুষ্টিত। জিয়াউর রহমানের নামে কালুরঘাট সেতুর নামকরণের দাবী জানালেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান সাংবাদিককে না পেয়ে গাড়ি পাহারাদারের উপর চড়াও — পুলিশের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদী ও মব সন্ত্রাস দূর করে মুক্ত সংস্কৃতির প্রবাহের মাধ্যমেই সব মানুষের মানবতার রাষ্ট্র সম্ভব। আল্লামা ইমাম হায়াত পটিয়া-আনোয়ারা-চন্দনাইশের সংযোগস্থলে ‘ওয়াই টাইপ’ সেতুর দাবিতে মতবিনিময় পটিয়া-আনোয়ারা-চন্দনাইশের সংযোগস্থলে ‘ওয়াই টাইপ’ সেতুর দাবিতে মতবিনিময় সেনবাগে ক্যাবের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

উস্তাদ রিষু তালুকদারের শাস্ত্রীয় সংগীত ও নজরুল সংগীতের অনবদ্য শৈলী

Reporter Name / ১৭৩ Time View
Update : সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬

যীশু সেন:

বাংলাদেশের সংগীত জগতের এক অমূল্য রত্ন, রিষু তালুকদার, যিনি শুধুমাত্র এক অনন্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই পরিচিত নন, বরং একজন গীতিকার, সুরকার, দক্ষ সংগঠক, শিক্ষক, গবেষক এবং মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের স্থান তৈরি করেছেন। তার প্রতিভা, নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতার অনন্য সমন্বয়ে তিনি শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একজন সম্মানিত শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তার জীবন এবং সংগীতযাত্রা আধুনিক সংগীতের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

উস্তাদ রিষু তালুকদার ১৯৮১ সালের ৮ মে চট্টগ্রামের পটিয়া থানাধীন ধলঘাট ইউনিয়নের উত্তর সমুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রাখাল তালুকদার এবং মাতা কনিকা তালুকদার, উভয়েই সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ জন্ম নেয় এবং তার বড় বোন নীলিমা তালুকদার ছিলেন তার প্রথম সংগীতের শিক্ষক এবং প্রেরণার উৎস।

শৈশবেই তিনি সংগীতের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন এবং শুরু করেন গুরু অর্ণব রায় কার্তিক ও পটিয়ায় দীপক শীলের কাছে সংগীত শিক্ষা গ্রহণ। এই শিক্ষার মাধ্যমে তার মৌলিক ধারণা গড়ে ওঠে, যা তাকে পরবর্তীতে শাস্ত্রীয় সংগীত এবং নজরুল সংগীতের পথ অনুসরণ করতে প্রেরণা দেয়।

উস্তাদ রিষু তালুকদারের সংগীত শিক্ষা একটি নতুন দিগন্ত খোলার মতো হয়ে ওঠে যখন তিনি উপমহাদেশের প্রাচীনতম সংগীত প্রতিষ্ঠান, আর্য্য সংগীত সমিতিতে পণ্ডিত নির্মলেন্দু চৌধুরী এবং শ্রীমতি জয়ন্তী লালা থেকে উচ্চাঙ্গ সংগীত ও নজরুল সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পণ্ডিত নির্মলেন্দু চৌধুরী তার কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতের গভীর জ্ঞান প্রদান করেন, এবং শ্রীমতি জয়ন্তী লালা নজরুল সংগীতের সুরের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও রীতিনীতির সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দেন।
রিষু তালুকদার শুধুমাত্র একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছেন তা নয় , তিনি সংগীতের নানা শাখায় অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে নিয়মিত তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে তিনি অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তার গাওয়া নজরুল সংগীত, রাগপ্রধান গান এবং শাস্ত্রীয় সংগীত শ্রোতাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

সম্প্রতি, তিনি সংগীত গবেষণার ক্ষেত্রেও অসাধারণ অবদান রেখেছেন। তার লেখা তিনটি বই— “শাস্ত্রীয় সংগীত দীপিকা”, “পাঁচশত রাগের গ্রন্থ সুর সম্ভার”, এবং “শাস্ত্রীয় সংগীত তত্ত্ব”— সংগীত প্রেমী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করছে। এই গ্রন্থগুলিতে শাস্ত্রীয় সংগীতের সূক্ষ্মতা, রাগের বৈশিষ্ট্য, সুরের সৌন্দর্য ও তত্ত্বের গভীর বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা সংগীত শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। তাহার শিক্ষায় বহু ছাত্র-ছাত্রী দেশের বাহিরে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে।

উস্তাদ রিষু তালুকদার শুধু একজন শিল্পী নয়, তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক এবং সংগঠকও। তিনি আর্য্য সংগীত সমিতিতে উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রশিক্ষক ও বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের অধ্যক্ষ হিসেবে সংগীত শিক্ষার প্রতিটি স্তরে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর উন্নতি সাধনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তার শিক্ষা ও অনুপ্রেরণায় অনেক প্রতিভাবান শিল্পী আজ সংগীত জগতে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছেন। তার শিক্ষণ পদ্ধতি অত্যন্ত নির্ভুল এবং গভীর, যা শিক্ষার্থীদের শাস্ত্রীয় সংগীত এবং নজরুল সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট করে।
উস্তাদ রিষু তালুকদারের চরিত্র শুধুমাত্র সংগীতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তার জীবনদর্শনও এক মানবিক এবং আদর্শিক। তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান এবং দরদি মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার বিশ্বাস, সংগীতের মাধ্যমে শুধু শিল্পের বিকাশ ঘটে তা নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে মানবতাবাদী চেতনা এবং সাম্যবোধ সৃষ্টি করতে পারে। তার জীবন ও কর্ম প্রমাণ করে যে, একটি আদর্শ জীবন গঠন করতে হলে তা অবশ্যই সৎ ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।
উস্তাদ রিষু তালুকদার তার দীর্ঘ সংগীত জীবনে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। তার সংগীতের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা এবং প্রতিভা তাকে অনেক বার সম্মানিত করেছে। তার গান এবং সংগীতের প্রতি নিবেদন শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে, যা তাকে একজন উচ্চমানের শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সংগীতের পৃথিবী এক রহস্যময় এবং এর জগত খুবই গভীর, যেখানে প্রতিটি নোট ও সুর যেন মানুষের আত্মার সাথে মিলিত হয়ে যায়। রিষু তালুকদারের মতো শিল্পীরা সেই সুরের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চিরকালীন ছাপ রেখে যান। তার সংগীত এবং জীবনদর্শন আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ভালোবাসা, মানবতা এবং নৈতিকতার চর্চা করতে অনুপ্রাণিত করে। তিনি শুধু সংগীত জগতের নন, বরং মানব সমাজেরও এক অমূল্য রত্ন। তার অবদান ছাত্র-ছাত্রী এবং দেশের কল্যাণে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

লেখক: সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category