পলাশ সেন চট্টগ্রাম
দেশের যেকোনো প্রান্তে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হত্যা, নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ, জুলুম, অত্যাচার কিংবা ভূমি ও সম্পত্তি দখলের মতো ঘটনা ঘটলে আমরা রাজপথে দাঁড়াই—কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা বহন করার জন্য নয়, বরং একজন নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে।দুঃখজনকভাবে, আমাদের কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পেজ কিংবা পদবিধারী ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে সেই প্রচারকে কেন্দ্র করে আমাদের স্বতন্ত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়

এবং আন্দোলনের ন্যায্য দাবিগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ তৈরি হয়। এমনকি আন্দোলন যখন তীব্র হয়, তখন সরকারি দল থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক মহল থেকেও বলা হয়—“এটি সংখ্যালঘুদের আন্দোলন নয়, এটি অমুক দলের আন্দোলন।”আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—সংখ্যালঘুদের অধিকার কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, আর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবিকে কোনো রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করার সুযোগ নেই।আমাদের কর্মসূচিতে কোনো দলীয় স্বার্থ, ক্ষমতার রাজনীতি কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্য নেই। আমাদের একমাত্র দাবি—দেশের প্রতিটি সংখ্যালঘু নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পদ ও ভূমির নিরাপত্তা, সমঅধিকার এবং প্রতিটি অন্যায়ের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার।তাই সকল রাজনৈতিক দল, সরকারি দল, বিরোধী দল এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি আমাদের আহ্বান—সংখ্যালঘুদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে রাজনৈতিক পরিচয়ে বিভক্ত না করে, বরং রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমঅধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখুন।আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে নই; আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে।আমরা কোনো দলের পক্ষে নই; আমরা ন্যায়বিচারের পক্ষে।আমাদের আন্দোলনের পরিচয় একটাই—সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও সমঅধিকারের আন্দোলন।পরিশেষে, এই ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যারা উপস্থিত থেকে সংহতি জানিয়েছেন এবং কর্মসূচিকে সফল ও সার্থক করেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কণ্ঠস্বর থামবে না।