ফরিদপুর প্রতিনিধি
আলী আকবার আকুল: দেশের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ফরিদপুরসহ সারা দেশে শুরু হলো ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের নতুন যাত্রা। বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের ৬ষ্ঠ ব্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মো. আমিনুল হক। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ মাহবুব-উল-আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডঃ গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান।প্রকল্পটি মাঠ পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহযোগী হিসেবে কাজ করছে দেশের খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটির সুদক্ষ প্রশিক্ষক ও আধুনিক মডিউলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে ফ্রিল্যান্সিং শেখানো হচ্ছে। এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বর্তমান বিশ্বের উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন বিষয় যেমন— গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং ও স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং-এর ওপর নিবিড় প্রশিক্ষণ পাবেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ৫টি ব্যাচে মোট ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ (৮,৬৪০ জন) ইতিমধ্যে দেশি ও বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করেছেন। তাদের সম্মিলিত আয়ের পরিমাণ ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকার সমান। সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারে তরুণদের কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা ফ্রিল্যান্সিংকে গ্রাম-গঞ্জের শিক্ষিত তরুণদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি।"মোঃ আমিনুল হক, প্রতিমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদে এই ব্যাচে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস যুবদের মধ্য থেকে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এদের নির্বাচিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই ব্যাচে ভর্তির জন্য সারা দেশ থেকে ৯৭ হাজার ২২৯ জন আবেদন করেছিলেন, যা এই প্রশিক্ষণের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।সময়কাল: ৩ মাস (মোট ৬০০ ঘণ্টা)।দৈনিক প্রশিক্ষণ: ৮ ঘণ্টা।প্রধান বিষয়: কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন। সুবিধা: প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম জানান, প্রশিক্ষণার্থীদের সহায়তায় প্রতিটি জেলায় সেন্টারিং ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রশিক্ষণ শুরুর দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল খুলে তাদের আয় ও অগ্রগতির তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।