মোঃ শহিদুল ইসলাম বিশেষ সংবাদদাতাঃ
অশ্রু–প্রার্থনার এক অনলিখিত ইতিহাস,দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আরোগ্যে জাতির ঐক্য,বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রাপথে ন্যায়–অন্যায়ের সংঘাত বহুবার ইতিহাসে রেখাপাত করেছে। কিন্তু আজকের পরিস্থিতি যেন আরো জটিল, আরো তীব্র। এমন এক সন্ধিক্ষণে দেশের অন্যতম প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবনতির খবর জাতিকে উদ্বেগ ও বেদনায় আচ্ছন্ন করেছে।
দেশ–বিদেশে একটাই আলোচনা—তিনি কি সুস্থ হবেন? তিনি কি আবার দাঁড়াবেন এই জাতির সামনে, গণতন্ত্রের প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে?এই প্রশ্নের উত্তরের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এখন একটাই আর্তি—“আল্লাহ তাকে সুস্থতা দান করুন।”
চট্টগ্রাম বরাবরই রাজনৈতিক চেতনার নগরী। এই শহর কখনো অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেনি, মানবিকতার প্রশ্নে কখনো নীরব থাকেনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ড—বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চকবাজার, চান্দগাঁও, কর্ণফুলী, বাকলিয়া, পাহাড়তলী, পতেঙ্গা—সবখানে একই দৃশ্য:মসজিদে, মাদ্রাসায়, মাঠে, কমিউনিটি সেন্টারে হাজারো মানুষ হাত তুলে প্রার্থনা করছেন।
বক্তারা কঠোর কণ্ঠে বলেন—“একজন তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে মানবিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না। মানবিকতা রাজনীতির ঊর্ধ্বে।”চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রবীণ সাংবাদিকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
দেশজুড়ে নীরব জনতার ঢল—অদৃশ্য এক গণজাগরণঃ ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, যশোর, বাগেরহাট—দেশের প্রতিটি জেলায় ছোট-বড় দোয়া মাহফিল।পরিবেশ যেন একই সুরে বাঁধা মাইকের শব্দ নেই, রাজনৈতিক স্লোগান নেই—শুধু নীরব অশ্রু, হাত তোলা মানুষের দীর্ঘশ্বাস, আর গভীর আকাঙ্ক্ষা।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ছায়াঘেরা মাঠে বয়স্ক কৃষকদের এক সমবেত কণ্ঠ থরথরিয়ে ওঠে—“তিনি সুস্থ হোন, দেশের গণতন্ত্রের পথ আবার জেগে উঠুক।”
গ্রামের গৃহিণী থেকে শহরের শিক্ষার্থী—সবাই বলছেন,“দেশ যে সংকটে আছে, তার অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।”
প্রবাসে আবেগের বিস্ফোরণ—মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ পর্যন্তঃপ্রবাসী বাংলাদেশিরা সবসময় দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট অনুভব করেন হৃদয়ে। সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেন—সব জায়গাতেই জুমার নামাজের পর বিশেষ দোয়া হয়েছে।
প্রবাসীদের কণ্ঠে একই কথা—“তিনি শুধু সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক যুগান্তকারী অধ্যায়। তাঁর সুস্থতা মানে দেশের স্থিতিশীলতার শ্বাসফেরা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কঠোর মন্তব্য,থিঙ্ক–ট্যাংক ও বিশ্লেষকরা বলছেন—বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি বিরোধী রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি করেছে। গণতান্ত্রিক ভারসাম্য দুর্বল হয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষকের কণ্ঠে কঠোর সতর্কবার্তা—“রাজনৈতিক প্রতিহিংসা রাষ্ট্রকে কোথাও পৌঁছায় না। গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা করতে বিরোধী নেতৃত্বকে বাঁচতে দিতে হবে। তাঁর সুস্থতা দেশের স্বার্থে।”
নারীদের আবেগ: “নারী নেতৃত্বের অগ্রদূত তিনি”নারী সমাজ বলছে—দেশের রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্বকে যে উচ্চতায় তিনি তুলে ধরেছেন, তা ইতিহাসের অংশ। তাদের ভাষায়—“তিনি সুস্থ হলে নারী নেতৃত্ব আবার শক্তি ফিরে পাবে।”
চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধার কঠোর উচ্চারণঃএক প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা দোয়ার পর চোখ ভেজা কণ্ঠে বলেন—“রাষ্ট্রের দায়িত্ব রাষ্ট্রনেতাকে সম্মান দেয়া। মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু মানবিক মর্যাদায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব অটুট।”তার এ বক্তব্য প্রমাণ করে—রাজনৈতিক ভেদাভেদ থাকলেও মানবিকতার প্রশ্নে জাতি ঐক্যবদ্ধ।
দোয়া এখন নীরব আন্দোলন—তরুণদের উপস্থিতি বিস্ময়কর,বিভিন্ন স্থানে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তারা বলছে—“দেশে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সংকট আছে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী সুস্থ থাকলে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও স্থিতি বজায় থাকত।”
দোয়া শেষে অনেকের চোখে অশ্রুর রেখা। মনে হয়েছে—এ যেন শুধু প্রার্থনা নয়;এ এক নিঃশব্দ প্রতিবাদ, এক মানবিক জাগরণ।
প্রার্থনার সাধারণ পাঁচ দাবি,প্রতিটি দোয়া মাহফিলে যে পাঁচটি প্রার্থনা অত্যন্ত স্পষ্ট—দ্রুত আরোগ্য,রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান,মানবিক সহানুভূতির বিকাশ,গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ,জাতীয় ঐক্যের শক্তিশালী ভিত্তি,,
আয়োজকদের ঘোষণা:“দেশনেত্রী সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দোয়ার ধারা থামবে না।”আজকের বাংলাদেশ মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও রাষ্ট্রনৈতিক দায়িত্ব—এই তিনটির পরীক্ষাগারে দাঁড়িয়ে আছে।দেশ–বিদেশের মানুষের নিরবচ্ছিন্ন দোয়া ও উদ্বেগ প্রমাণ করে—এই জাতি এখনও মানবিকতাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।
বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য এই মহাস্রোত একদিন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে—“রাজনীতি ছিল বিভক্ত, কিন্তু মানবিকতা ছিল ঐক্যবদ্ধ।”